মায়ের পাশে সমাহিত হলেন মতিন খান-

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হাজারো মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় মায়ের কবরের পাশে সমাহিত হলেন হবিগঞ্জের প্রবীণ আইনজীবী আলহাজ্ব এমএ মতিন খান। দুইটি জানাজা শেষে তাকে ধুলিয়াখালস্থ নিজ গ্রামে পারিবারিক গোরস্থানে দাফন করা হয়। গতকাল দুপুরে মরহুমের মরদেহ ঢাকা থেকে হবিগঞ্জস্থ নিজ বাসভবনে পৌঁছলে পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মীরা তাকে এক নজর দেখার জন্য ভীড় করেন। এ সময় অনেকেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
পরবর্তীতে দুপুর দুইটার কিছু পূর্বে প্রথম জানাজার জন্য জজকোর্ট প্রাঙ্গণে তাকে নেয়া হয়। এ সময় সহকর্মী আইনজীবীসহ বিপুল সংখ্যক লোক সমবেত হন। জানাজাপূর্বক সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোঃ আবু জাহির, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান শহীদ উদ্দিন চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মোঃ মিজানুর রহমান, সাবেক মেয়র আলহাজ্ব জিকে গউছ, সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট এম আকবর হোসেইন জিতু, জেলা বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট বদরু মিয়া, অ্যাডভোকেট সাধারণ সম্পাদক রুহুল হাসান শরীফ প্রমুখ।
বাদ আসর মরহুমের দ্বিতীয় জানাজা ধুলিয়াখাল জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গ্রামবাসীসহ বিপুল সংখ্যক মুসল্লী জানাজায় শরীক হন। দ্বিতীয় জানাজা শেষে নিজ বাড়ির পারিবারিক গোরস্থানে মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। প্রথম জানাজায় ইমামতি করেন মরহুমের ভাগ্নে মোজাম্মেল হক। মোনাজাত পরিচালনা করেন বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমাম মুফতি আলমগীর হোসাইন সাইফী।
উল্লেখ্য, হবিগঞ্জের প্রথম পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি), রোটারী ক্লাব অব হবিগঞ্জের চার্টার মেম্বার ও পাস্ট প্রেসিডেন্ট এবং হবিগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খান গত রবিবার দুপুর পৌনে দুইটায় ঢাকাস্থ বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খান তিন মেয়াদে হবিগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পরে দুই মেয়াদে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি হবিগঞ্জের প্রথম পাবলিক প্রসিকিউটর। জেলা অ্যাডভোকেট সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন ছাড়াও তিনি হবিগঞ্জ ল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। রোটারী ক্লাব অব হবিগঞ্জের পাস্ট প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। জীবদ্দশায় হবিগঞ্জ জেলায় সামাজিক বিচারকার্জে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছেন মরহুম মতিন খান। ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত বন্ধু বৎসল, সদালাপি ও সর্বদা হাস্যোজ্জ্বল ছিলেন।

-