নবীগঞ্জে ২৫শ’ টাকা সহায়তার তালিকায় ইউপি সদস্যের স্বজনপ্রীতি-


নবীগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ নবীগঞ্জে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারিভাবে আড়াই হাজার টাকার নগদ সহায়তা কার্যক্রমে উপকারভোগীদের তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যের বিরুদ্ধে। নিজের ওয়ার্ডে ৮০টি পরিবারের তালিকায় রেখেছেন ভাই-ভাতিজা ও ভাবীসহ ৪০/৪৫ নিকটাত্মীয়ের নাম। ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের এই সদস্য করোনাকালে অন্যান্য সরকারি সহায়তা বিতরণেও অনিয়ম করেছেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
৩নং ওয়ার্ডের দিঘীরপাড়, বানিউন, রমজানপুর, লতিবপুর, মোকামপাড়া, দরবেশপুর গ্রামবাসী এসব অভিযোগ উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। গত ১৯ মে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়, ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন করোনা ভাইরাস পরিস্থিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত অস্বচ্ছলদের বাদ দিয়ে তার আপন ভাই, ভাবী ও শশুরবাড়ির আত্মীয়-স্বজনদের নাম তালিকাভুক্ত করেছন। জালিয়াতি করেছেন মোবাইল নাম্বার ব্যবহারেও।
তালিকা পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, একই নারীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে একাধিকবার। কৌশল হিসেবে পরিবর্তন করা হয়েছে তার জাতীয় পরিচয় পত্র নাম্বার। ওই নারী সম্পর্কে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের আপন বড় ভাইয়ের স্ত্রী।
এদিকে, সরকারের অন্য কোন সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর আড়াই হাজার টাকা সহায়তা না পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। অথচ ইনাতগঞ্জের ৩নং ওয়ার্ডে প্রধানমন্ত্রীর এই সহায়তা কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগী স্বপ্ন বেগম নামে নারীর নাম। এক্ষেত্রেও কৌশল হিসেবে বদল করা হয়েছে ভোটার আইডি কার্ড নাম্বারের কয়েকটি ডিজিট।
এছাড়া ৮০টি নামের বিপরীতে ওই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য তার ৪০/৪৫ আত্মীয়-স্বজনের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে দ্রুত প্রতিকার চেয়েছেন তারা। তবে অভিযোগ সাজানো বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিন।
এ ব্যাপারে ইনাতগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান বজলুর রশিদ বলেন, ২৫শ’ টাকার সরকারি সহায়তার তালিকায় অনিয়ম থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে।

-