একজন গাড়ি চালক রুবেল-
শামীম আহছান ॥ আমাদের পরিবারের অন্যতম সদস্য গাড়ি চালক রুবেল গতকাল দুপুরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আমাদের ছেড়ে চলে গেছে। শনিবার রাতে তার বুকে ব্যাথা হলে তাকে প্রথমে বাসার কাছে একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে তাকে হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে নেয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় (ইন্না..রাজিউন)। সবচেয়ে কষ্টের ব্যাপার হলো- তার অসুস্থ হওয়ার খবরটা কেউ আমাদের জানায়নি। দুপুর বেলা আমার আরেক বন্ধুর ড্রাইভারের মাধ্যমে তার মৃত্যুর খবরটা শুনি। গত শনিবারও যথারীতি সে দায়িত্ব পালন করেছিল। আমরা পুরো পরিবার তার জন্য শোকাহত। অসুস্থ হওয়ার খবর যথা সময়ে পেলে হয়তো তার ভাল চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করতাম। কিন্তু সেই  সুযোগ আমরা পেলাম না। গত প্রায় ১২ বছর ধরে আমার গাড়ি চালানোর কাজটা অত্যন্ত বিশ্বস্থতা ও সততার সঙ্গে সে পালন করেছে। ঘড়ি ধরে কোনওদিন ডিউটি করেনি। যখন বলেছি তখনই ছুটে এসেছে। এমনও হয়েছে আগের দিন অনেক রাত পর্যন্ত ডিউটি করেছে। কিন্তু পরদিন খুব সকালেই আবার কাজ করতে চলে এসেছে সময়মতো। আমার ছোট ছেলেকে প্রতিদিন স্কুল থেকে আনা নেওয়া ছিল তার দায়িত্ব। সেই দায়িত্বটা সে নিষ্টার সঙ্গে পালন করেছে। গাড়ি চালানো ছাড়াও অন্য যে কোনও কাজে তাকে পাঠালে আমরা নিশ্চিন্ত থাকতাম। আমাদের অনেক আত্মীয়-স্বজন চিকিৎসার জন্য হবিগঞ্জ অথবা সিলেট থেকে ঢাকা যেতেন। তখন ওই আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তাকে যেতো হতো। তাদের কেউ হাসপাতালে ভর্তি হলে তখন বাসা থেকে খাওয়া নিয়ে যাওয়ার কাজটিও সে হাসিমুখে করতো। এমনও হয়েছে দিনের পর দিন এই কাজটি নিয়মিত তাকে করতে হতো। এনিয়ে তার কোনও অনুযোগ থাকতো না। আমার পরিবারের সঙ্গে এমনভাবে সে মিশে গিয়েছিল কখনো তাকে বাইরের কেউ মনে হয়নি। আমি অনেক গাড়ি চালককে দেখেছি খাওয়া নিয়ে অনুযোগ থাকতো। কিন্তু রুবেল কখনই এটি করতো না। আসলে যে কোনও মানুষ যে কাজটিই করুক তা যদি নিষ্টা, সততা ও বিশ্বস্থ্যতার সঙ্গে করে তবে তার জন্য অন্যরকম একটি ভালবাসা তৈরী হয়। রুবেল ছিল সেরকম একজন মানুষ। তার জন্য আমাদের অন্যরকম একটি ভালবাসা তৈরী হয়েছিল। আমাদের পরিবারের পরিচিত অনেকেই তার খবর শুনে শোকাহত। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসিব করুণ। তার পরিবারকে যেনো আল্লাহ ধৈর্য্য ধরার তৌফিক দেন। আমীন।
-