বিয়ের দাবিতে বিষের বোতল হাতে নিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে প্রেমিকার অনশন-
জুয়েল চৌধুরী ॥ চুনারুঘাটে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে বিষের বোতল হাতে নিয়ে এক যুবতী অনশন করছে। ঘটনাটি ঘটেছে চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের বনগাও গ্রামে। প্রেমিকার অবস্থানের কথা জানার পর থেকেই প্রেমিক মোজাহের আলী জুয়েল (২৯) পলাতক। সে ওই গ্রামের হাছন আলীর ছেলে। অনশনরত যুবতী ঘনশ্যামপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের কন্যা (২৪)। এদিকে হয় বিয়ে, না হয় প্রেমিকের বাড়িতেই বিষপানে আত্মহত্যা করার আল্টিমেটাম দিয়ে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন রুবি। এ নিয়ে এলাকায় রসালো আলোচনার ঝড় উঠেছে।
প্রেমিকা রুবি জানায় প্রায় ৪ বছর পূর্বে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জুয়েলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরপর থেকে তারা বিভিন্ন এলাকায় প্রমোদ ভ্রমণ করে। এছাড়া রুবিকে আরও কাছে পেতে জুয়েল হবিগঞ্জ কোর্টে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এফিডেভিট নং ৪৩ মুলে বিয়ে করে। ইদানিং জুয়েল তার পরিবারের পছন্দমতে সিলেটের সুবিদবাজারে তার খালাতো বোনকে বিবাহ করবে জানাতে পেরে রুবি জুয়েলের বাড়িতে যায়। তাদের এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন জড়ো হতে থাকে। খবর পেয়ে চুনারুঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় মুরুব্বীয়ানের সাথে কথা বলে বিয়ের আশ্বাস দিলে ওই যুবতী অনশন তুলে নেয়। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ অব্দুর রউফের জিম্মায় ওই যুবতীকে দেয়া হয়।
রুবি আরও জানান, জুয়েল আমার জীবন নষ্ট করেছে। আমি তাকেই বিয়ে করব। তার সঙ্গে বিয়ে না হলে এই বাড়িতেই আমি আত্মহত্যা করব। অনশনকারীর মা রাবেয়া খাতুন জানান, জুয়েল নামে ছেলেটি আমার সহজ সরল মেয়েকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে। সে মেয়েটিকে ফুসলিয়ে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে স্বামী-স্ত্রীর মতো চলাচল করে। আমরা জানতাম সে বিয়ে করেছে এখন সে কোর্টের এফিডেভিট অস্বীকার করছে। আমার মেয়েকে বিয়ে না করে মেয়েটির সর্বনাশ করে বাড়িতে পাঠায়। অবশেষে আমার মেয়ে বিষের বোতল হাতে নিয়ে বিয়ের দাবিতে ছেলের বাড়িতে অবস্থান নেয়।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবেদ হাসনাত সনজু চৌধুরী বলেন, স্থানীয়ভাবে অনশনের বিষয়টি সুরাহার জন্য আমার পরিষদের সদস্যকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সুরাহা না হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ছেলে ও তার পরিবার ওই মেয়েকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ নিয়ে আমরাও বিপাকে আছি। আব্দুর রউফ মেম্বার জানান তাদের ঘটনা সত্য, প্রেমিকা রুবি আমার হেফাজতে রয়েছে, আগামী শুক্রবার আমরা বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে বসব।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম আজমিরুজ্জামান জানান, বিষয়টি শুনেছি। থানায় অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
-