পাহাড় টিলা হাওর বন: হবিগঞ্জের পর্যটন-
‘পাহাড় টিলা হাওর বন: হবিগঞ্জের পর্যটন’ শিরোনামে একটি ‘ব্র্যান্ড বুক’ প্রকাশ করেছে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন। জেলা ব্র্যান্ডিং এর অংশ হিসেবে হবিগঞ্জ জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্য বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরার উদ্দেশ্যে ব্র্যান্ড বুকটি প্রকাশ করা হয়েছে। ব্র্যান্ড বুকে সত্যিকার অর্থেই ফুটে উঠেছে হবিগঞ্জের ইতিহাস ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্ভাবনা। জেলা প্রশাসকের অনুমতি সাপেক্ষে দৈনিক খোয়াইর পাঠকদের উদ্দেশ্যে ব্র্যান্ড বুকে প্রকাশিত সকল তথ্য ও চিত্র পর্যায়ক্রমে তুলে ধরা হচ্ছে।
সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহীম ॥ ব্র্যান্ড বুকে বানিয়াচংয়ের লক্ষ্মীবাউর জলাবনের ছবিসহ এটি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়- বাংলাদেশের আরেক বৃহত্তম সোয়াম্প ফরেস্ট বানিয়াচংয়ের লক্ষ্মীবাউর জলাবন। এ বনে রয়েছে মেছোবাঘ, শিয়াল, কেউটে, গুইসাপ, গোখড়া, দারাইশসহ নানা প্রজাতির বিষধর সাপ। বর্ষায় ঢেউহীন স্বচ্ছজলের সঙ্গে মিতালি গড়ে উঠে বাহারি প্রজাতির বৃক্ষলতার। হেমন্তে দৃশ্যমান হয় ছোট ছোট পাহাড়ের ন্যায় বনভূমির। শীতে দেশি-বিদেশি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয় নির্জন এই জলাবন। সিলেটের রাতারগুলের মতোই বানিয়াচংয়ের লক্ষ্মীবাউর জলাবন। তবে লক্ষ্মীবাউর জলাবনের আকার ও আয়তনের ব্যাপ্তি অনেক বড়। এর দক্ষিণ দিকে লোহাচূড়া, উত্তরে খড়তি আর পশ্চিমে নলাই নদী। তার পূর্ব পাশে রয়েছে গঙ্গাজলের হাওর। লক্ষ্মীবাউর জলাবনের আয়তন সাড়ে তিন বর্গকিলোমিটার। এর দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ প্রায় সমান।
ব্র্যান্ড বুকে বাণী দিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মদ। বাণীতে তিনি লিখেন- ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য নেতৃত্বে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলেছে বাংলাদেশ। টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ঠ লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের সকল জেলা প্রশাসন প্রতিটি জেলার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, পর্যটন, পণ্য, উদ্যোগ এবং ইতিহাস ও ঐতিহ্য সমন্বয়ে জেলার নিজস্ব সম্ভাবনাসমূহের যথাযথ বিকাশে জেলা-ব্র্যান্ডিং নামে বিপুল কর্মযজ্ঞ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
একটি জেলার স্বাতন্ত্র্য ও সম্ভাবনাসমূহকে বিকশিত করার মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নই জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের মূল অভিলক্ষ্য। জেলা-ব্র্যান্ডিং জেলার ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সংরক্ষণ ও চর্চা, পর্যটন-শিল্পের বিকাশ, এক জেলা এক পণ্য কর্মসূচির বাস্তবায়নে সহায়তা প্রদান এবং জেলার ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য চিহ্নিতকরণ এবং তা সংরক্ষণের ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। জেলার বিখ্যাত পণ্যের প্রসার, বিশেষ কোনো উদ্যোগের বাস্তবায়ন এবং পর্যটন শিল্পের সুচারু বিকাশে জেলা-ব্র্যান্ডিং অসাধারণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এটুআই প্রোগ্রামের সহযোগিতায় এবং জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সকল জেলা ইতোমধ্যে তাদের ব্র্যান্ডিংয়ের বিষয় নির্ধারণ এবং লোগো ও ট্যাগলাইন তৈরি করেছে। পাশাপাশি সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে জেলাসমূহ তাদের ব্র্যান্ডিং পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
বাণীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন- ব্র্যান্ডিং-কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জেলাসমূহ ব্র্যান্ডিং কার্যক্রমকে কার্যকররূপে তুলে ধরতে জেলা-ব্র্যান্ডবুক কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। জেলার পর্যটন, পণ্য, বিশেষ উদ্যোগ, ইতিহাস ও ঐতিহ্য-নির্ভর হৃদয়গ্রাহী চিত্র ও তথ্যসমৃদ্ধ ব্র্যান্ড-বুক প্রকাশের জন্য আমি জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ, এটুআই এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তিবর্গ ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
-