বানিয়াচঙ্গের দৌলতপুর পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নয়া একাডেমিক ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠ-
তোফায়েল রেজা সোহেল, বানিয়াচং থেকে ॥ বানিয়াচং উপজেলার দৌলতপুর পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্কুলের নতুন একাডেমিক ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানের নামে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে আদায় করছেন শিক্ষকরা। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এলজিইডির তত্ত্বাবধানে ১ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই স্কুলে দ্বিতল ভবন নির্মিত হয়। স্কুল কমিটিসহ শিক্ষকগণ ভবনটি উদ্বোধন করার উদ্যোগ নেন। এ উপলক্ষে ৯ সেপ্টেম্বর স্কুলে তারা প্রস্তুতিমূলক সভা করেন।  
অভিভাবক সাবাজ মিয়া জানান, তার দু’ছেলে স্কুলে পড়ে। শিক্ষকসহ কমিটির লোকেরা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত হয়েছে, এমপি আবদুল মজিদ খানকে এনে ভবনটির উদ্বোধন করার। অনুষ্ঠানে গরু ধরে খানাপিনা হবে। ছাত্র প্রতি দেবে ৫০ থেকে ১০০ টাকা। শিক্ষকদের চাপে তার দুই সন্তান ২০০ টাকা দিয়েছেন। অভিভাবক রেজাউল করিম জানান, উদ্বোধন অনুষ্ঠানের জন্য তার দুই সন্তানকে ২০০ টাকা দিতে বলেছেন শিক্ষকরা। আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে টাকা দিতে না পারায় তার বাচ্চারা দুদিন ধরে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। লিচু মিয়া জানান, তার ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। ছোট্ট একটি দোকানের আয়ে কোনোমতে চলে সংসার। এরপরও অনুষ্ঠানের জন্য ৫০ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন। 
এ প্রতিনিধিকে ফোন করে স্কুল কমিটির সদস্য বরকত আলী জানান, উদ্বোধন অনুষ্ঠানের দিনক্ষণ এখনও ঠিক হয়নি। তবে অনুষ্ঠানে অতিথিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তির জন্য দুপুরের খাবার ও ছাত্রছাত্রীর জন্য তবারকের ব্যবস্থা করা হবে।
এ প্রসঙ্গে স্কুলের প্রধান শিক্ষক রেহেনা নাসরিন বলেন, আমরা কোনো শিক্ষার্থীর কাছে টাকা চাইনি। টাকা দেয়ার প্রস্তাবও করিনি। নতুন ভবনটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠান করতে সভা ডেকে পরামর্শ চেয়েছিলাম। সভায় কমিটির লোক, অভিভাবক, ইউপি চেয়ারম্যানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ছিলেন। সভায় একজন অভিভাবক ১ হাজার টাকা দেয়ার কথা বললে অন্য অভিভাবকরা বলেন, যে যেমন পারেন অনুষ্ঠানের জন্য টাকা দেবেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ছাইফুল আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেয়ার সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।  
-