সিলেটে রোটাবর্ষের জোনাল প্রিপারেটরি মিটিং ‘অভিযাত্রা-১’ অনুষ্ঠিত-
রোটারী ডিস্ট্রিক্ট ‘৩২৮২’ এর সুরমা জোনের ৪৭টি ক্লাবের ৩১০ জন সদস্যের উপস্থিতিতে ২০১৯-২০ রোটাবর্ষের জোনাল প্রিপারেটরি মিটিং ‘অভিযাত্রা-১’ অনুষ্ঠিত হলো সিলেট শহরের ধোপাদীঘির পাড়স্থ ইউনাইটেড কমিউনিটি সেন্টারে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় রোটারিয়ান পাস্ট প্রেসিডেন্ট ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদের পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের সমবেত কন্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। রোটারী প্রত্যয় পাঠ করেন জালালাবাদ রোটারী ক্লাবের ক্লাব সেক্রেটারী তানভীর চৌধুরী। আগস্ট মাস শোকের মাস। অনুষ্ঠানের এই পর্যায়ে শোক প্রস্তাব পেশ করেন রোটারিয়ান খালেদ। পরবর্তীতে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। ডিস্ট্রিক্ট গভর্ণর ইলেক্ট প্রিন্সিপাল লেঃ কর্নেল (অবঃ) এম আতাউর রহমান পীর ও ইনকামিং ডিস্ট্রিক্ট ফাস্ট লেডি ফিরোজা রহমানকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা প্রদান করেন রোটারিয়ান আলহাজ্ব শামীম আহছান। পাস্ট ডিস্ট্রিক্ট গভর্ণর শহিদ আহমদ চৌধুরী ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দকে ফুল দিয়ে বরণ করেন রোটারিয়ান হানিফ মোহাম্মাদ, রোটাঃ সেলিম খান, রোটারিয়ান রুমেল এম এস পীর, রোটারিয়ান মারুফ আহমদ প্রমূখ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল ক্লাব ও অতিথিবৃন্দকে পরিচয় করিয়ে দেন রোটারিয়ান পিপি শামসুল হক দিপু। প্রোগ্রাম চেয়ার রোটারিয়ান পাস্ট প্রেসিডেন্ট সেলিম খান স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। এর পর উপস্থিত অতিথিবৃন্দকে নিয়ে অনুষ্ঠান স্থলে দুটি প্রজেক্ট সম্পন্ন করা হয়। যার মধ্যে একটি প্রজেক্টে মৌলভীবাজারের নিজাম উদ্দিনের স্ত্রী নিপা বেগম ও একই এলাকার রেনু বেগমকে স্বাবলম্বী হওয়ার জন্য দুইটি সেলাই মেশিন প্রদান করা হয়। আরেকটি প্রজেক্টে রোটারী ক্লাব অভ সিলেট গ্রিন এর প্রেসিডেন্ট আলী মিরাজ মোস্তাক এর অর্থায়নে একজন গৃহহীন ব্যক্তিকে গৃহ নির্মানের নিমিত্তে দুই বান ঢেউটিন প্রদান করা হয়।
পরবর্তীতে ডিস্ট্রিক্ট গভর্ণর ইলেক্ট লেঃ কর্নেল (অবঃ) এম আতাউর রহমান পীর এর পরিচিতি ও জীবনী নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় যাতে উপস্থাপনা করেন তার সুযোগ্য পুত্র রুমেল এম এস পীর ও ইনকামিং ডিস্ট্রিক্ট সেক্রেটারী রোটারিয়ান পিপি নিরেশ চন্দ্র দাশ। ডিজিই এম আতাউর রহমান পীর তার বক্তৃতায় ২০১৯-২০ রোটাবর্ষের গোল, ভিশন ও মিশন নিয়ে তার সম্পাদিত সুভ্যেনির ‘অভিযাত্রা’ তে তা সম্পূর্ন তুলে ধরেন এবং ডিজিটাল প্রেজেন্টেশন এর মাধ্যমে উপস্থিত সকলের সামনে  সুভ্যেনির ‘অভিযাত্রা’ নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় থাকে সহায়তা করেন রুমেল এম এস পীর।
২০১৯-২০ রোটাবর্ষের গভর্ণর এর লক্ষ্যগুলো হচ্ছে সিলেটে একটি রোটারী অরফেনেজ প্রতিষ্ঠা করা, ডিস্ট্রিক্ট  ৩২৮২ এর অন্তর্গত ৭ টি জোনে ৭ টি এম্বুলেন্স প্রদান, সিনিয়র সিটিজেনদের জন্য তহবিল গঠন ইত্যাদি। এ ছাড়াও তিনি আগামী রোটাবর্ষে বিভিন্ন ক্লাবকে যে গোল দিয়েছেন তার মধ্যে প্রতিটি ক্লাব অন্তত একটি করে বয়স্ক শিক্ষা কেন্দ্র চালু করতে হবে, প্রতিটি ক্লাব অন্তত একটি সেনিটারী প্রজেক্ট করতে হবে, অন্তত একজন ছাত্রের এক বছরের পড়াশুনার সম্পূর্ণ খরচ বহন করতে হবে ইত্যাদি।
এই সুভ্যেনিরে ২০১৯-২০ এর রোটাবর্ষের গোল, ভিশন ও মিশনসহ রোটারী ক্লাবের বাই-ল এরিয়া অফ ফোকাস, স্ট্রেটেজিক প্লান, বিভিন্ন কমিটির দায়িত্ব এওয়ার্ড পারটিসিপেশন এর তথ্যাবলি, ক্লাব ট্রেইনারের দ্বায়িত্ব, ক্লাব প্রেসিডেন্টের দ্বায়িত্বসহ রোটারীর বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। ডিজিই তার বক্তব্যের শেষ দিকে বলেন, গভর্ণর ট্রেনিং শেষ করে আসার পর তিনি  ২০১৯-২০ রোটাবর্ষের ডিস্ট্রিক্ট কমিটি ঘোষণা করবেন। উপস্থিত অতিথিবৃন্দের বক্তব্য শেষে রোটারিয়ান আব্দুস সামাদ নজরুল, রোটারিয়ান কামরুল ইসলাম, রোটারিয়ান নাজিম উদ্দিন, রোটারিয়ান শামীম আহছান, রোটারিয়ান তাহমিনা বেগম গিনি, রোটারিয়ান আতাউর রহমান মিলনসহ বিভিন্ন ক্লাব প্রেসিডেন্ট, পাস্ট প্রেসিডেন্ট ও প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট বক্তব্য প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানের শেষের দিকে অতিথিবৃন্দ লটারি বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার সামগ্রী তুলে দেন এবং প্রোগ্রাম চেয়ার সেলিম খান উপস্থিত সবাইকে রাতের খাবারের আমন্ত্রণ জানান, সকলের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি  ঘোষণা করেন ডিস্ট্রিক্ট গভর্ণর ইলেক্ট লেঃ কর্নেল (অবঃ) এম আতাউর রহমান পীর।
-
প্রথম পাতা