কাশিপুর ও উবাহাটায় জুয়া ॥ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আয়োজক চক্র-
স্টাফ রিপোর্টার ॥ শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার বরমপুর, কাশিপুর, কাচিশাইল, কুটিরগাঁও, উবাহাটাসহ কয়েকটি গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে প্রতিরাতেই বসছে জমজমাট জুয়ার আসর। আর এসব আসরে অংশগ্রহণ করছে হবিগঞ্জ, শায়েস্তাগঞ্জ, নবীগঞ্জ, বানিয়াচং, মৌলভীবাজার, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী, কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে আগত জুয়াড়ি ও উঠতি বয়সের যুবক। প্রতিদিনই ওয়ান-টেন, ওয়ান-এইট, তিন তাস, নয় তাস, কাটাকাটি, নিপুণ, চড়াচড়ি, ডায়েস, চরকি রেমিসহ নানা নামের জুয়ার আসর বসে থাকে ওই সব বাড়িতে। লোভ সামলাতে না পেরে অনেকেই জুয়া খেলায় অংশ নিয়ে পথে বসছেন। এতে পারিবারিক অশান্তিসহ সমাজে বিভিন্ন ধরণের অপরাধ বাড়ছে। ভুক্তভোগীরা সর্বশান্ত হলেও জুয়ার নামে প্রতিদিন কয়েক লাখ টাকা করে মাসে কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে আয়োজক চক্র। অথচ জুয়া খেলা আইন অনুযায়ী দ-নীয় অপরাধ হলেও অভিযোগ রয়েছে খোদ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কতিপয় কর্তাদের ম্যানেজ করেই দিনের পর দিন চলছে এ অপকর্ম। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও শায়েস্তাগঞ্জ ও চুনারুঘাট থানা পুলিশ রহস্যজনক কারণে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে জানা যায়, এ সকল জুয়ার আসরে নেতৃত্ব দিচ্ছে সুরুজ আলী, বাবুল ও জয়নাল, শামীমসহ কতিপয় ব্যক্তি। অসংখ্য জুয়ার আসরের মধ্যে নতুন ব্রীজ সংলগ্ন উবাহাটা গ্রামের শামীম মিয়া ও কাশিপুর গ্রামের সুরুজ আলীর বাড়িতে বসে জুয়ার সর্ববৃহৎ আসর। গোপন সূত্রে জানা যায়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ কয়েকটি শাখাকে ম্যানেজ করে গত আট মাস ধরে জুয়ার আসর চলছে। জুয়ার বোর্ড নির্বিঘেœ চালাতে উল্লেখিতদের সহযোগী হিসেবে কাজ করে আরো ৫ জন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানান, তার দায়িত্ব হলো দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা জুয়াড়িদের আসরে নিয়ে যাওয়া। প্রতি জুয়াড়িকে নিয়ে আসা বাবদ তিনি পেয়ে থাকেন প্রতিদিন ২শ টাকা। জুয়ার বোর্ডে অংশ নেয়া জুয়াড়িদের আপ্যায়নসহ নির্বিঘেœ বোর্ড চালাতে বিভিন্ন পয়েন্টে রয়েছে পাহারার ব্যবস্থা। এ জন্য আরো দুই ব্যক্তিকে দেয়া হচ্ছে গাড়ি প্রতি ২শ টাকা করে মোট ৪শ টাকা। স্থানীয় অনেকেই নাম-পরিচয় গোপন রাখার শর্তে অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসনকে জানিয়ে কোনো লাভ হয়নি। তবে পুলিশ বলছে জুয়ার বোর্ড চলার কথা তারা শুনেছেন। খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ জুয়ার সামগ্রীর খোঁজে যে কোনো সময় (বল প্রয়োগ করে হলেও) তল্লাশি চালাতে পারবে বলেও আইনে উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে শায়েস্তাগঞ্জ ও চুনারুঘাট থানা পুলিশ শীর্ষ জুয়াড়িদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না। কিছুদিন আগে ডিবি পুলিশ জুয়াড়ি সুরুজ আলীর বাড়ি অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করলেও রহস্যজনক কারণে পরের দিন ছেড়ে দেয়। এরপর থেকে আবারো তাদের নেতৃত্বে ওই এলাকায় চলছে জমজমাট জুয়া।

-