চিত্রনায়ক শাকিব খানকে বাদ দিয়ে ইজাজুল মিয়ার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল-
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বানিয়াচঙ্গের সিএনজি অটোরিকশা চালক ইজাজুলের দায়ের করা মামলা থেকে চিত্রনায়ক শাকিব খানের নাম বাদ দিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশের ওসি মোঃ শাহ আলম। মঙ্গলবার বিকেলে তিনি হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সম্পা জাহানের আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ডিবি’র ওসি মোঃ শাহ আলম বলেন, সিনেমাতে যারা অভিনয় করেন তারা শুটিংয়ে পরিচালকের নির্দেশ মেনে চলেন। পরিচালক যে ডায়ালগ দিতে বলেন নায়ক-নায়িকারা সেই ডায়ালগ দেন। ডায়ালগের ব্যাপারে সাধারণত অভিনেতা অভিনেত্রীদের নিজের কোন মতামত নেই। আলোচ্য মামলায় নায়ক শাকিব খান ও অপু বিশ্বাস দুজনই ভালবাসা আদান প্রদান করেছেন পরিচালকের নির্দেশে। মামলায় শাকিব খানকে আসামী করা হলেও অপু বিশ্বাসকে আসামী করা হয়নি। কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন- অপরাধী হলে দুজনই অপরাধী। ওসি মোঃ শাহ আলম আরো বলেন, তিনি এ মামলাটির ব্যাপারে আইন বিষয়ে অভিজ্ঞ অনেকের সাথে কথা বলেছেন। আইনের বিধান মেনে শাকিব খানকে অভিযোগ থেকে বাদ দিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছেন।
ডিবি’র ওসি বলেন- যেহেতু আলোচিত সিনেমায় বাদী ইজাজুল মিয়ার অনুমতি ব্যতীত তার মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করা হয়েছে এবং তার নাম্বারে অনেক ফোন আসায় তার মানসম্মান হেয় হয়েছে সেজন্য মামলার অন্য দুই আসামীর বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ ৪ মাস তদন্ত শেষে ৩১ পাতার এই প্রতিবেদন তৈরি করেন। এই সময়ের মাঝে তিনি বাদীর মানিত এবং নিরপেক্ষ ৬ জনের ৬১ ধারায় সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। এফডিসিসহ বিভিন্ন সংস্থা থেকে তথ্য উপাত্ত এবং মোবাইল অপারেটরের কাছ থেকে তথ্য নেয়া হয়। মামলার প্রধান আসামী নায়ক শাকিব খান ভারতে শুটিংয়ে ব্যস্ত থাকায় হবিগঞ্জে আসেননি। তবে তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ হয়েছে। অপর দুই আসামী সিনেমার পরিচালক বুলবুল বিশ্বাস ও প্রযোজক আশফাক আহমেদ হবিগঞ্জে এসে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির ওসি শাহ আলম জানান, মামলায় ৪২০ ধারার কোন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ৫০০ ধারার অস্থিত্ব আছে। সেন্সর বোর্ড থেকে যেহেতু সিনেমাটি অনুমতি পেয়েছে তাই নায়ককে অভিযুক্ত করার সুযোগ নেই। আর সিনেমার সংলাপ নায়ক উচ্চারণ করলেও এর পরিচালক তা নির্ধারিত করে দেন।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ জানান, মামলার আসামীর তালিকা থেকে নায়ক শাকিব খানকে বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ নাই। এ ব্যাপারে প্রতিবেদনের উপর তিনি নারাজি দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ অক্টোবর হবিগঞ্জের আদালতে ৫০ লাখ টাকার মানহানির অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন ইজাজুল মিয়া নামে এক অটোরিক্সা চালক। এর আগে শাকিবভক্তদের মোবাইল ফোনে অতিষ্ঠ হয়ে ইজাজুল গত ২৮ অক্টোবর বানিয়াচং থানায় রাজনীতি সিনেমার নায়ক শাকিব খান, প্রযোজক আশফাক আহমেদ, পরিচালক বুলবুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়রি করেন।
নায়ক শাকিব খান ‘রাজনীতি’ ছবিতে নায়িকা অপু বিশ্বাসকে গ্রামীনফোনের যে মোবাইল নাম্বারটি দেন সেটি আসলে কাকতালীয়ভাবে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজলার যাত্রাপাশা গ্রামের মোবারক মিয়ার ছেলে ইজাজুল মিয়ার মোবাইল নাম্বারের সঙ্গে মিলে যায়। এ ঘটনাই ইজাজুল মিয়ার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিদিন শাকিবভক্তদের ৭ থেকে ৮শ’ ফোন কল আসতে থাকে তার মোবাইল ফোনে। অপরিচিত মেয়েদের কাছ থেকে সারাদিন ফোন আসতে থাকায় স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত সন্দেহে স্ত্রী মিশু আক্তার বাপের বাড়িতে চলে যান ১৬ মাস বয়সী একমাত্র শিশু কন্যা ইমুকে নিয়ে। অন্যদিকে, একের পর এক কল আসায় সিএসজির মালিক বাদল মিয়া ফোন করে সময় মতো ইজাজুলকে না পেয়ে তার সিএনজি অটোরিকশা চালকের চাকরি থেকে বাদ দেন। ফলে তিনি মামলাটি দায়ের করেন।
২ ঘটা ১৬ মিনিটের সিনেমা ‘রাজনীতি’র একটি দৃশ্যে নায়িকা অপু বিশ্বাস তার ডায়ালগে বলেন, ‘এভাবে বার বার আর কোনো দিন চলে যেত দেব না আমার স্বপের রাজকুমার, জবাবে নায়ক শাকিব খান বলেন, ‘আমিও তোমাকে আর ছেড়ে যাব না আমার রাজ কুমারী’। তখন নায়িকা অপু জানতে চান ‘আমার ফেইসবুক আইডি যে ‘রাজকুমারী’ তুমি তা জানলে কী করে? জবাবে নায়ক শাকিব খান বলেন, ‘যেভাবে তুমি জান আমার মোবাইল নাম্বার ০১৭১৫...’। প্রকৃতপক্ষে গ্রামীণফোনের ওই মোবাইল নাম্বারটি চিত্রনায়ক শাকিব খানের নয়। কাকতালীয়ভাবেই এটি বানিয়াচং উপজলার যাত্রাপাশা গ্রামের ইজাজুল মিয়ার নাম্বারের সঙ্গে মিলে যায়।
প্রসঙ্গত, গত ৬ মার্চ মামলার নির্ধারিত তারিখে বিচারক সম্পা জাহান ১৪ মার্চের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ডিবির ওসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আদালতের নির্দেশ মানতে ডিবির ওসি শাহ আলম নির্দিষ্ট তারিখের আগেই তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

-