বাহুবলে বন্দুকযুদ্ধে দুর্ধর্ষ ডাকাত মদন নিহত ॥ দুই পুলিশ আহত-
এসএস সুরুজ আলী ॥ বাহুবলে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত মদন মিয়া ওরফে মোজাম্মেল ওরফে সুজন (৩৪) নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় এক এসআইসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোররাতে বাহুবল উপজেলার দারাগাও চা বাগানের ২নং সেকশন এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধ ঘটে।
পুলিশ সূত্র জানায়, অস্ত্র ডাকাতি ও হত্যাসহ ৭টি মামলার আসামী মদনকে বুধবার গ্রেফতার করা হয়। রাতে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে তার সহযোগীদের নাম প্রকাশ করে এবং তাদের অস্ত্র রাখার জায়গা সম্পর্কে তথ্য দেয়। তার তথ্য মতে ডাকাতদের অস্ত্র উদ্ধার ও অন্যান্য ডাকাতদের ধরতে রাত তিনটার দিকে মদনকে নিয়ে অভিযানে নামে পুলিশ। অভিযানকালে হঠাৎ পুলিশের উপর গুলিবর্ষণ করে ডাকাত মদনের সহযোগীরা। এ পরিস্থিতিতে পুলিশও পাল্টা গুলি করে। এক পর্যায়ে ডাকাত মদন পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে। এ সময় ডাকাতদের নিক্ষিপ্ত গুলি লাগে মদনের বুকে। এ ঘটনার সময় এসআই সোহেল শাহ ও কনস্টেবল ইমরান মোল্লা আহত হন। তাদেরকে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ১টি দেশীয় পাইপগান, ৩ রাউন্ড গুলি, ২টি গুলির খোসা, ৩টি রামদা, ১টি চাকু ও ১টি গামছা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে তাকে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ময়না তদন্তের জন্য লাশ হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
নিহত মদন বাহুবল উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের মরহুম রহমান মিয়ার ছেলে।
বাহুবল থানার ওসি তদন্ত বিশ্বজিৎ দেব জানান, ডাকাত মদনকে ছাড়িয়ে নিতে তার সহযোগীরা পুলিশের উপর গুলি ছুড়ে। এ সময় এসআই সোহেল শাহ ও কনস্টেবল ইমরান মোল্লা আহত হয়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ ১৭ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছুড়ে। এক পর্যায়ে ডাকাত মদন মিয়া তার সহযোগীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্মরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি আরো জানান, মদনের বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি হত্যাসহ ৭টি মামলা রয়েছে। গতকাল বিকেলে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্ত শেষে নিহত মদনের লাশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, নিহত ডাকাত মদনের বাবা আব্দুর রহমান এলাকার চিহ্নিত ডাকাত ছিলেন। এলাকাবাসী তাকে রহমান চোরা বলে ডাকতেন। ডাকাতি করতে গিয়ে একবার নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর থেকে আর তার কোন খোঁজ খবর পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে রহমান চোরার ছেলে মদন এলাকার মানুষের আতংকে হয়ে দাঁড়ায়। এলাকার মানুষ রাতের বেলা শান্তি ঘুমাতে পারতেন না। কখনও মদন ডাকাত তার দলবল নিয়ে হানা দেয়। গতকাল তার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে এলাকায় স্বস্থি ফিরে আসে।
-
প্রথম পাতা