ত্রিপুরা থেকে ধেঁয়ে আসা পানিতে চুনারুঘাটের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত-
আবুল কালাম আজাদ, চুনারুঘাট থেকে
গত দুদিনের টানা বর্ষণ, পাহাড়ী ঢল ও ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা ঢলে চুনারুঘাট উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের নি¤œাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব গ্রামের রাস্তা, পুকুর ডোবা ও ফসল পানির নিচে রয়েছে। এতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে সহ¯্রাধিক লোক পানিবন্দি রয়েছে। খোয়াই, করাঙ্গী ও সুতাং নদীর পানি উপচে উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকার ফসলাদি ও ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। খোয়াই নদীর পানি চুনারুঘাটের বাল্লা সীমান্তে দুপুর ১২টায় ১৯০ সেঃমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
শুক্রবার থেকে টানা দুদিন চুনারুঘাটে বৃষ্টি হলেও সীমান্তের ওপারে ত্রিপুরার খোয়াইসহ কয়েকটি জেলায় গত তিন দিন ধরেই টানা বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে ত্রিপুরার খোয়াই জেলাসহ কয়েকটি জেলা বন্যা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে ত্রিপুরার বানের পানি নামতে শুরু করেছে। এসব পানি খোয়াই নদী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে ভাাটি অঞ্চলের যাচ্ছে। একই সাথে টানা দুদিনের বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের নি¤œাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
সরজমিনে দেখা গেছে উপজেলার গাজীপুর, আহমদাবাদ, দেওরগাছ, পাইকপাড়া, শানখলা, সাটিয়াজুরী ও মিরাশী ইউনিয়নের অর্ধশতাধিক গ্রামের নি¤œাঞ্চল এখন পানিতে ভাসছে। খোয়াই, করাঙ্গী ও সুতাং নদী ঘেষা গ্রামগুলোতে পানি প্রবেশ করেছে। বর্ষন পাহাড়ী ঢলের সাথে ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা পানি যোগ হয়ে চুনারুঘাটে ধেয়ে আসছে বন্যা। গতকাল শনিবার দুপুরে খোয়াই নদীর পানি বিপদসীমার ১৯০ সেঃ মিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সরজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার সিংপাড়া ও পশ্চিম পীরের গাও মাঝামাঝি খেয়াঘাট এলাকায় খোয়াই নদী ভাঙ্গনের আশংকা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকা বালু উত্তোলনের ফলে সৃষ্ট গত এখন মরন ফাদ হয়ে দাড়িয়েছে। যে কোন সময় খোয়াই নদী ভেঙ্গে ঐ এলাকার ১৫/১৬টি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশংকা কৃষকরা আতংকের মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া খোয়াই নদীর বাল্লা থেকে শায়েস্তাগঞ্ পর্যন্ত আরো প্রায় ২০টি স্থান রয়েছে ঝুকিপুর্ণ অবস্থায়। এছাড়া সুতাং ও করাঙ্গী নদীর পানি উপচে আউশের পাকা ফসল ও রোপা আমন তলিয়ে গেছে। একই সাথে অনেকের বীজতলা পানির নিচে রয়েছে।
এদিকে পাহাড়ী ঢলের কারণে উপজেলার চন্ডিছড়া ব্রীজ থেকে সাতছড়ি পর্যন্ত পুরাতন মহাসড়কে ৭টি ব্রীজ ভাঙ্গনের আশংকায় রয়েছে। যে কোন সময় এসব ব্রীজ বানের পানিতে ভেঙ্গে পড়তে পারে।

-