নিউইয়র্কে গুলিতে নিহত মাওলানা আলাউদ্দিন হত্যার বিচারকার্য শুরু হবে আগামী মাসে-
আবুল কালাম আজাদ, চুনারুঘাট থেকে ॥ আজ ১৩ আগস্ট। শোক, বেদনা ও মর্মাহত জড়ানো একটি দিন। গত বছরের এই দিনে নিউইয়র্কে আল ফুরকান জামে মসজিদের সামনে দুর্বৃত্তের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন, কুইন্স ওজনপার্কে অবস্থিত আল-ফুরকান জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব জনপ্রিয় ইসলামী চিন্তাবিদ, পীরজাদা আল্লামা শহীদ শাহ্ আলাউদ্দিন আখঞ্জী (রহ:)। তিনি হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার আহম্মদাবাদ ইউনিয়নের (গোছাপাড়া) গ্রামের শামছুল আরেফীন আল্লামা শাহ্ শামছুদ্দিন আখঞ্জীর (রহ:) ছেলে।
তার জীবন কেটেছে প্রথমে শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে জামে মসজিদ, অতপর হবিগঞ্জ শহরের চৌধুরী বাজার কেন্দ্রীয় সুন্নি জামে সসজিদ এবং সর্বশেষ নিউইয়র্ক কুইন্স ওজনপার্কে অবস্থিত আল-ফুরকান জামে মসজিদে। জীবনের সর্বাঙ্গে তিনি ছিলেন অবিচল, আস্থাশীল ও সক্রিয়। তিনি সরলমনা মুসলমানদের শিখিয়েছেন আল্লাহ, নবী ও ওলীদের কিভাবে ভালবাসতে হয়। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন খুবই সাধারণ। জীবন যাপন ছিল অনাড়ম্বর ও অতি সাদামাটা। মূলত সত্য, ন্যায়, ইসলামের সঠিক শিক্ষা ও আদর্শ প্রচারে তিনি ছিলেন সক্রিয় ব্যক্তিত্ব। যার উজ্জ্বল প্রমাণ মানুষকে সত্যের পথিক বানানো। যার কারণে সারা বিশ্বের প্রায় মুসলিম বিশেষ করে প্রবাসী বাঙালিরাও ছিল তাঁর প্রতি ভক্ত ও শ্রদ্ধাশীল।
মাওলানা আলাউদ্দিন আকঞ্জী হত্যার পর দেশে বিদেশে এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। বিশেষ করে মুসলমানদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। তার মৃত্যুতে বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ ও হত্যার বিচার দাবি করা হয়। বাংলাদেশেও সুন্নীয়তের অনুসারীরা তার হত্যার কারণ উদঘাটন এবং তাকে হত্যায় যারা জড়িত তাদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে। এদিকে তার মৃত্যু দিবসে তার নিজের গ্রাম গোছাপাড়া আকঞ্জী দরবার শরীফে শোক সভা, মিলাদ মাহফিল, কোরআন খতমসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে।
বাংলাদেশে অবস্থানরত তার ছেলে ফয়েজ উদ্দিন আকঞ্জী জানান, তার পিতাকে হত্যার পর নিউইয়র্ক পুলিশ হত্যার সাথে জড়িত অস্কার মোড়েল নামে একজন স্পেনিশ নাগরিককে আটক করে। সে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। ফয়েজ উদ্দিন আকঞ্জী জানান, পুলিশের কাছে এখনো আটক অস্কার মোড়েল মাওলানা আলাউদ্দিন আকঞ্জী হত্যার দায় স্বীকার করেনি। তার আইনজীবীরা তাকে মস্তিস্ক বিকৃত বলে প্রমাণের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে ইতোমধ্যে নিউইয়র্কের আদালত ভিডিও ফুটেজ, অস্কার মোড়েল এর বন্দুক এবং হত্যায় ব্যবহৃত গুলির ব্যালাস্টিক পরীক্ষা করে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে বিচারের সময় নির্ধারণ করেছেন। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকেই এ হত্যা মামলার বিচারকার্য শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ ঘটনার সাথে আর কেউ জড়িত কিনা তা এখনো জানা যায়নি। তিনি তার পিতার হত্যার বিচারকার্য দ্রুত শুরু করার দাবি জানান।

-