বাহুবলে মসজিদ কমিটি ও ইমাম পরিবর্তন নিয়ে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষে লন্ডন প্রবাসীসহ ২ জন নিহত-
বাহুবলে মসজিদ কমিটি ও ইমাম পরিবর্তন নিয়ে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষে লন্ডন প্রবাসীসহ ২ জন নিহত ॥ পুলিশসহ শতাধিক আহত
মোঃ নূরুল ইসলাম মনি, বাহুবল থেকে ॥ বাহুবলের মুগকান্দি মসজিদ কমিটি ও ইমাম পরিবর্তনের জের ধরে ২য় দফা সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও পুলিশসহ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। আহতদের অধিকাংশই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে গা-ঢাকা দিয়েছে। নিহতরা হলেন- মুগকান্দি গ্রামের লন্ডনী বাড়ির মৃত আব্বাস উল্লার পুত্র লন্ডন প্রবাসী কবির মিয়া (৫৫) ও একই গ্রামের মৃত মুসলিম উদ্দিনের পুত্র মতিন মিয়া (৫০)। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার সকাল ৬টার দিকে। আগের দিন বাদ জুম্মা একই ঘটনার জের ধরে সংঘর্ষে অর্ধশত লোক আহত হয়। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ১০০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি এবং ২৫ রাউন্ড টিআর সেল নিক্ষেপ করে। ঘটনার পরপরই পুলিশ বিভিন্ন স্থান থেকে ৮ জনকে আটক করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বাহুবল উপজেলার সাতকাপন ইউনিয়নের মুগকান্দি জামে মসজিদের কমিটি গঠন ও ইমাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষে বিরোধ চলছিল। এক পক্ষ বর্তমান ইমাম ফরিদ আখঞ্জীর পরিবর্তন চায়। অপরপক্ষ ওই ইমামের পক্ষে অবস্থান নেয়। এ অবস্থায় গত শুক্রবার জুম্মার নামাজে সাতকাপন ইউপি চেয়ারম্যান মুগকান্দি গ্রামের শাহ আবদাল মিয়ার গ্রুপের সোহেল মিয়ার সাথে একই গ্রামের মুশাহিদ মেম্বার গ্রুপের শফিক মাস্টারের বাকবিতন্ডা হয়। এই বাকবিতন্ডার জের ধরে বাদ জুম্মা উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় দু’ঘন্টা স্থায়ী সংঘর্ষে উভয়পক্ষে অর্ধশত লোক আহত হয়। একই ঘটনার জের ধরে গতকাল শনিবার সকাল ৬টার দিকে উভয়পক্ষ ২য় দফা সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। দুই ঘন্টা স্থায়ী সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ ১০০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ২৫ রাউন্ড টিআর সেল নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষে পুলিশসহ শতাধিক লোক আহত হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় মুগকান্দি গ্রামের মৃত আব্বাস উল্লার পুত্র কবির মিয়া লন্ডনীকে (৫৫) বাহুবল হাসপাতাল এবং একই গ্রামের মৃত মুসলিম উদ্দিনের পুত্র মতিন মিয়াকে (৫০) হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। অন্যান্য আহতদের মাঝে ফরিদ মিয়া তালুকদারের পুত্র আজাদ (২৬), মৃত আপ্তান মিয়ার পুত্র সুহেল মিয়া (৩০), মৃত আমির হোসেন আখঞ্জীর পুত্র সেলিম আখঞ্জী (৩০), আব্দুল আউয়াল ফটিকের পুত্র মহিবুর রহমান (২৫), মৃত সিকান্দর উল্লার পুত্র সমাই মিয়া (৩৫), মৃত ছন্দু মিয়ার পুত্র রুনু মিয়া (৫০), আব্বাস উদ্দিনের পুত্র সানু মিয়া (৬০), মৃত আমির হোসেনের পুত্র সিজিল মিয়া (২৮), কাছন মিয়ার পুত্র নূর উদ্দিন (১৮), সুলতান মিয়ার পুত্র নূর মিয়া (৬০), আব্দুল সোবহানের পুত্র আরশ মিয়া আখঞ্জী (৫৫), উস্তার মিয়ার পুত্র তোফায়েল (২৫), হাজী ছন্দু মিয়ার পুত্র বাবুল মিয়া (৩৫), সমাই মিয়ার পুত্র রুবেল (১৮), মৃত সিকান্দর উল্লার পুত্র কাছন মিয়া (৫০), আরজ মিয়ার পুত্র সুজন আখঞ্জী (২৭), কাপ্তান মিয়া আখঞ্জীর পুত্র সোহান আখঞ্জী (২২), সুলতান মিয়ার পুত্র জাহাঙ্গীর মিয়া (৬০), সানু মিয়ার পুত্র জাহিদ মিয়া (২৮), মৃত মতির মিয়ার পুত্র মমিন মিয়া (২৭), মৃত আবিদ আলীর পুত্র জুনাব আলী (৫০), রুনু মিয়ার পুত্র রাজিব (১৩) ও রাফিন (১৫), মোজাম্মেল উদ্দিনের পুত্র মোঃ জসিম (৩৮), জাহাঙ্গীর আখঞ্জীর পুত্র মোছাব্বির আখঞ্জী (২০), কুরুশ মিয়ার পুত্র রাজন মিয়া (২২), ফুল মিয়ার পুত্র আনোয়ার মিয়া (৫৫), এএসআই সুহেল শাহ (৩৩), কনস্টেবল জাহিদ খান (২৬) ও আনোয়ার হোসেন (২০) প্রমুখ।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাহুবল মডেল থানার এসআই মফিদুল হক জানান, সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে ১০০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ও ২৫ রাউন্ড টিআর সেল নিক্ষেপ করা হয়। ঘটনার পরপর বিভিন্ন স্থান থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে ৮ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো- মুগকান্দি গ্রামের শাহ হারুনুজ্জামানের পুত্র শাহ বদর উদ্দিন কামরান (২৫), রমিজ আলীর পুত্র মোঃ সেলিম মিয়া (৩৩), শাহ হিরা মিয়া তালুকদারের পুত্র শাহ খুমেদ তালুকদার (২১), আরজত আলীর পুত্র আব্দুল ওয়াহিদ (৩০), মৃত গেদু মিয়ার পুত্র ফুরুক মিয়া (৫০), ফুল মিয়ার পুত্র আনোয়ার (৫৫), বক্তারপুর গ্রামের মোঃ সিরাজ আলীর পুত্র মোঃ তাহির মিয়া (৩৮) ও সারংপুর গ্রামের আব্দুস শহীদের পুত্র মোঃ শুকুর মিয়া (২৬)।
-
প্রথম পাতা