তাহমিনা বেগম গিনি
আহবায়ক, পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট
ধর্ষিতা মেয়েটি মারা গেল। স্বাভাবিক মৃত্যু নয় অপমৃত্যু। ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে স্বেচ্ছায় এই ধরাধাম ত্যাগ করলো। আত্মহত্যা করেছে বলেই এখন কথার কত ডালপালা গজিয়েছে। সাংবাদিকদের অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি এবং মন গন্ধ পেয়েছে যা কিছু সেই রাতে ঘটেছিল সবই প্রেমের আবেগে। আমাদের মত সাধারণ মানুষের মন বুঝতে চায় না প্রেমই যদি থাকবে তবে কেন আত্মহত্যা। পত্রিকার পাতায় প্রথম দিনের যে খবর পড়েছি তার সাথে দ্বিতীয় দিনের সংবাদের বিস্তর ফারাক। হয়তো বা ক্রমান্বয়ে আরও ডালপালা গজাবে আসল ঘটনা চাপা পড়ে যাবে। মূল আসামী ছাড়া পেয়ে যাবে। মরেও মেয়েটি নিন্দিত হতে থাকবে। এই দেশে, এই সমাজে, এই দেশের বিচারালয়ে এমনি হতেই দেখে আসছি। পত্রিকার সংবাদের ভিত্তিতে জেনেছি ‘পুলিশ কনস্টেবলের বখাটে ছেলে ধর্ষক ফাহাদ গ্রেফতার।’ যারা আমাদের রক্ষাকর্তা তাদের এলাকাতেই ঘটেছে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা। ঘটনাস্থল থেকে বখাটে ছেলেটিকে হাতেনাতে ধরা হয়েছে। আশ্চর্য্যজনক ভাবে সবার উপস্থিতিতেই মেয়েটি আত্মহত্যা ঘটিয়েছে। আত্মহত্যা প্রচেষ্টাও চালিয়েছিল। এসবের একমাত্র কারণ ধর্ষিতা হওয়ার পর পুলিশ এবং আত্মীয়স্বজনের বাক্যবানে মেয়েটির আরও একবার ধর্ষিতা হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ধর্ষণের জন্য মেয়েটি আত্মহত্যার ইচ্ছে না থাকলেও বিভিন্ন কথায় জর্জরিত হয়ে ঘৃণায় লজ্জায় মেয়েটি আর এ সমাজে মুখ দেখাতে চায়নি। আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী আইনে শাস্তির বিধান আছে। বখাটেপনার দন্ডের বিধান আছে আর ধর্ষক প্রমাণিত হলেও কঠিন দন্ডে দন্ডনীয় হওয়ার কথা। বিভিন্ন আঞ্চলিক এবং জাতীয় দৈনিকের ভিত্তিতেই এসব ঘটনা আমরা জানতে পেরেছি। নিশ্চয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও জেনেছেন। তারপরও অনেক পানি গড়াবে। এখন শুধু আমাদের অপেক্ষর পালা। এখানে আরও একটি ব্যাপার আছে। ঐ যে কথা আছে না ‘কাক তো কাকের মাংস খায় না।’
মারজানাকে এই সমাজ তার পরিবার, আশেপাশের মানুষ মরতে বাধ্য করেছে। অসহায় মেয়েটিকে তখন মৃত্যুর জন্য প্ররোচনা না দিয়ে কাছে টেনে নেওয়া উচিত ছিল। মারজানা যখন বাক্যবানে জর্জরিত হচ্ছিল, তখন মনে হয় ধর্ষক ফাহাদের গায়ে একটি আচড়ও লাগেনি। কারণ মারজানা নারী। আমরা, আপনার কন্যা, বোনও এমন পরিস্থিতির শিকার হতে পারে। সমাজে তাকে বাঁচতে দিন, মাথা তুলে দাঁড়াবার সাহস দিন। জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিচারালয় সকলের কাছে আবেদন সঠিক ঘটনা বের করে আনুন। অনুকরণীয় কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করুন ধর্ষক এবং প্ররোচনা দানকারীদের। মারজানাকে বলছি ‘কেন চলে গেলে বড্ড অসময়ে। যে নারী সন্তান জন্মদান করতে পারে, সন্তানের ভার বহন করতে পারে সে নারী অনেক শক্তিমান। সমাজের কিছু মানুষের জন্য এ লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আমরা যারা এখনও আছি তোমার ন্যায়ের জন্য সকলের সাথে লড়াই চালিয়ে যাবো।
আহবায়ক, পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট
ধর্ষিতা মেয়েটি মারা গেল। স্বাভাবিক মৃত্যু নয় অপমৃত্যু। ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে স্বেচ্ছায় এই ধরাধাম ত্যাগ করলো। আত্মহত্যা করেছে বলেই এখন কথার কত ডালপালা গজিয়েছে। সাংবাদিকদের অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি এবং মন গন্ধ পেয়েছে যা কিছু সেই রাতে ঘটেছিল সবই প্রেমের আবেগে। আমাদের মত সাধারণ মানুষের মন বুঝতে চায় না প্রেমই যদি থাকবে তবে কেন আত্মহত্যা। পত্রিকার পাতায় প্রথম দিনের যে খবর পড়েছি তার সাথে দ্বিতীয় দিনের সংবাদের বিস্তর ফারাক। হয়তো বা ক্রমান্বয়ে আরও ডালপালা গজাবে আসল ঘটনা চাপা পড়ে যাবে। মূল আসামী ছাড়া পেয়ে যাবে। মরেও মেয়েটি নিন্দিত হতে থাকবে। এই দেশে, এই সমাজে, এই দেশের বিচারালয়ে এমনি হতেই দেখে আসছি। পত্রিকার সংবাদের ভিত্তিতে জেনেছি ‘পুলিশ কনস্টেবলের বখাটে ছেলে ধর্ষক ফাহাদ গ্রেফতার।’ যারা আমাদের রক্ষাকর্তা তাদের এলাকাতেই ঘটেছে এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা। ঘটনাস্থল থেকে বখাটে ছেলেটিকে হাতেনাতে ধরা হয়েছে। আশ্চর্য্যজনক ভাবে সবার উপস্থিতিতেই মেয়েটি আত্মহত্যা ঘটিয়েছে। আত্মহত্যা প্রচেষ্টাও চালিয়েছিল। এসবের একমাত্র কারণ ধর্ষিতা হওয়ার পর পুলিশ এবং আত্মীয়স্বজনের বাক্যবানে মেয়েটির আরও একবার ধর্ষিতা হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ধর্ষণের জন্য মেয়েটি আত্মহত্যার ইচ্ছে না থাকলেও বিভিন্ন কথায় জর্জরিত হয়ে ঘৃণায় লজ্জায় মেয়েটি আর এ সমাজে মুখ দেখাতে চায়নি। আত্মহত্যার প্ররোচনাকারী আইনে শাস্তির বিধান আছে। বখাটেপনার দন্ডের বিধান আছে আর ধর্ষক প্রমাণিত হলেও কঠিন দন্ডে দন্ডনীয় হওয়ার কথা। বিভিন্ন আঞ্চলিক এবং জাতীয় দৈনিকের ভিত্তিতেই এসব ঘটনা আমরা জানতে পেরেছি। নিশ্চয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও জেনেছেন। তারপরও অনেক পানি গড়াবে। এখন শুধু আমাদের অপেক্ষর পালা। এখানে আরও একটি ব্যাপার আছে। ঐ যে কথা আছে না ‘কাক তো কাকের মাংস খায় না।’মারজানাকে এই সমাজ তার পরিবার, আশেপাশের মানুষ মরতে বাধ্য করেছে। অসহায় মেয়েটিকে তখন মৃত্যুর জন্য প্ররোচনা না দিয়ে কাছে টেনে নেওয়া উচিত ছিল। মারজানা যখন বাক্যবানে জর্জরিত হচ্ছিল, তখন মনে হয় ধর্ষক ফাহাদের গায়ে একটি আচড়ও লাগেনি। কারণ মারজানা নারী। আমরা, আপনার কন্যা, বোনও এমন পরিস্থিতির শিকার হতে পারে। সমাজে তাকে বাঁচতে দিন, মাথা তুলে দাঁড়াবার সাহস দিন। জনপ্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিচারালয় সকলের কাছে আবেদন সঠিক ঘটনা বের করে আনুন। অনুকরণীয় কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করুন ধর্ষক এবং প্ররোচনা দানকারীদের। মারজানাকে বলছি ‘কেন চলে গেলে বড্ড অসময়ে। যে নারী সন্তান জন্মদান করতে পারে, সন্তানের ভার বহন করতে পারে সে নারী অনেক শক্তিমান। সমাজের কিছু মানুষের জন্য এ লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আমরা যারা এখনও আছি তোমার ন্যায়ের জন্য সকলের সাথে লড়াই চালিয়ে যাবো।









