বাহুবল প্রতিনিধি ॥ বাহুবলের পল্লীতে পরকীয়া প্রেমের টানে ভাসুর পুত্রের সাথে পালিয়ে যাবার সময় সিএনজিসহ প্রেমিক-প্রেমিকাকে আটক করেছে জনতা। পরে সালিশ বিচারের মাধমে মুচলেকায় অভিভাভকের জিম্মায় যুবককে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। অবশ্য ঘটনাটি পরকীয়া নাকি মেয়েটি ষড়যন্ত্রের শিকার তা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে। এ নিয়ে বাহুবলের পুটিজুরীতে নানা আলোচনার ঝড় বইছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার রাতে। বিভিন্ন সূত্র জানায়, বাহুবল উপজেলার হাসনাবাদ গ্রামের টেনু মিয়ার কন্যা পপি আক্তার (২০) এর বিয়ে হয় চুনারুঘাট উপজেলার নরপতি গ্রামের দুবাই প্রবাসী আকল মিয়ার সাথে। বিয়ের কয়েক মাস পরই আকল মিয়া দুবাই চলে যায়। এ সুযোগে চাচীর প্রতি লোলুপ দৃষ্টি পড়ে আকল মিয়ার ভাতিজা সিজন মিয়ার (২৫)। পপিও ভাসুরপুত্রের প্রেমে পড়ে যায়। গত রমজান মাসে ভাসুর পুত্র সিজনকে পরিবারের লোকজন পপির বেডরুমে পেলে ওইদিনই পপির হাতের মোবাইল সেট কেড়ে নেন এবং রাতেই পপির অভিভাবককে খবর দেন আকল মিয়ার পরিবার। পরদিন পপির বাবা সহ কয়েকজন নরপতি গেলে আকল মিয়ার পরিবারের লোকজন পপিকে তাদের সাথে দিয়ে দেন। এরপর থেকে পপি বাবার বাড়িতেই অবস্থান করে আসছিল। দুবাইয়ে অবস্থানরত নিজ স্ত্রী ও আপন ভাতিজার এমন কান্ড শুনে বিমর্ষ হয়ে পড়ে আকল মিয়া। কিন্তু কোন সিদ্ধান্তে উপনিত হতে পারেননি তিনি। এদিকে পপি ও সিজন ঠিকই মোবাইলে যোগাযোগ রক্ষা করে চলে। একে অন্যকে কাছে পেতে তারা মরিয়া হয়ে উঠে। গত মঙ্গলবার রাত অনুমান ৮টার দিকে সিজন একটি সিএনজি অটোরিক্সা নিয়ে হাসনাবাদে পপির বাড়ির পাশে আসে। পপি বাড়ি থেকে বের হয়ে ঘর বাধার স্বপ্নে সিজনের সাথে পালিয়ে যায়। তাদের বহনকারী সিএনজিটি বৃন্দাবন চা বাগানের রাস্তায় উঠামাত্র স্থানীয় ভিলেজার আইন উদ্দিনের নজরে পড়লে তিনি পপিকে চিনতে পেরে সন্দেহজনকভাবে সিএনজিটি আটক করে পপির অভিভাবককে খবর দেন। এর পরপরই সিজন ও পপিকে নিয়ে যান টেনু মিয়ার বাড়িতে। এ ঘটনায় রাতেই সিজনের অভিভাবককে খবর দিলে পরদিন বুধবার সকালে স্থানীয় ইউপি মেম্বারসহ সিজনের অভিভাবকের উপস্থিতিতে টেনু মিয়ার বাড়িতে সালিশ বৈঠক বসে। সালিশে দেড়শ’ টাকার স্ট্যাম্পে শর্তসাপেক্ষে মুচলেকা দিয়ে সিজনকে ছাড়িয়ে নেন তার লোকজন। শর্ত থাকে যে, প্রবাসী আকল মিয়া যদি স্ত্রী হিসেবে পপিকে গ্রহণ না করে তাহলে পপির সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ সিজনকেই বহন করতে হবে।
এদিকে পপির পরিবার দাবি করেন- পপির সাথে সিজনের কোন প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। পপির স্বামীর বাড়ির সাথে মনোমালিন্য থাকায় পপি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছে। পপির স্বামীর বাড়ির লোকজনের প্ররোচনায় সিজন পপিকে প্রলোভন দিয়ে নিতে আসে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইউপি চেয়ারম্যান শাহ মাহবুবুর রহমান, যুবলীগ সভাপতি আব্দুল হাই, ইউপি মেম্বার থানা যুবলীগ নেতা আলাল মিয়া, ছুরুক মিয়া, আইন উদ্দিনসহ স্থানীয় মুরুব্বীয়ান।









