গুঙ্গিয়াজুরী প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বছরে ১ লাখ ৪০ হাজার টন ধান উৎপাদন
অক্সফাম কর্মকর্তা ও জাতীয় পর্যায়ের সংবাদকর্মীদের পরিদর্শন
নজরুল ইসলাম ॥ যুক্তরাজ্য ভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা অক্সফাম-এর বাংলাদেশ কর্মসূচির কর্মকর্তাগণ গতকাল প্রস্তাবিত হবিগঞ্জের গুঙ্গিয়াজুরী হাওর প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন মিডিয়া সমন্বয়কারী আব্দুল কাইয়ুম ও ক্যাম্পেইন অফিসার তাপস রঞ্জন চক্রবর্তী। কর্মকর্তাদের প্রকল্পের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অভিহিত করেন দৈনিক প্রভাকর সম্পাদক ও গুঙ্গিয়াজুরী হাওর প্রকল্প বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদ সভাপতি নোমান চৌধুরী। তিনি এ ব্যাপারে গুঙ্গিয়াজুরী হাওর প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে জানান যে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কারণে ১৩ হাজার ৬শ’ হেক্টর (৩৩ হাজার ৪৫৬ একর) এলাকার ফসল আকস্মিক ও মৌসুমী বন্যা থেকে রক্ষা পাবে। ধান উৎপাদন হবে ১ লাখ ৪০ হাজার টন অর্থাৎ ৯১ হাজার টন চাল। সরকারের সংগ্রহ মূল্য অনুসারে এই চালের দাম পড়বে ২৫৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এই পরিমাণ চাল ভারত থেকে আমদানি করতে ৩৯০ কোটি ৪০ লাখ, থাইল্যান্ড থেকে আমদানি করতে ৪১৮ কোটি ৬০ লাখ ও ভিয়েতনাম থেকে আমদানি করতে ৩০২ কোটি ১২ লাখ টাকা লাগবে। ধান ছাড়াও সেখানে হাঁস মুরগির খামার, দুগ্ধ খামার, মৎস্য খামার, সব ধরনের শাকসবজি উৎপাদন, কৃষি ভিত্তিক শিল্প কারখানা গড়ে উঠার সুযোগ সৃষ্টি হবে। তিনি তাদের আরো জানান, প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সেচের পানির প্রাপ্যতা বাড়বে। সমীক্ষা প্রতিবেদনে ২৪ লাখ ১৫ হাজার শ্রম দিবস লাগবে বলে উল্লেখ করা হলেও প্রকৃতপক্ষে ৫৪ লাখ শ্রম দিবস লাগবে। নিশ্চিত হবে খাদ্য নিরাপত্তা। তাদের সাথে ছিলেন আমদের সময়-এর ম্যানেজিং এডিটর জাহিদ আলামিন, এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার মাকসুদুল হাসান, ইত্তেফাকের আমির জুয়েল ও ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট-এর রফিকুল ইসলাম আজাদ। এছাড়া গুঙ্গিয়াজুরী হাওর প্রকল্প বাস্তবায়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আলাউদ্দিন তালুকদার ও স্থানীয় এনজিও সংস্থা এসেডের প্রধান নির্বাহী জাফর ইকবাল চৌধুরীও হাওর পরিদর্শনে ছিলেন। পরে অক্সফাম কর্মকর্তাগণ হবিগঞ্জ প্রেসক্লাবে খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে হাওরের উন্নয়ন সম্পর্কে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

প্রথম পাতা