নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ আজ দেশে আসছে ॥ নুহাশ পল্লীতে দাফন
সদ্যপ্রয়াত জননন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ নিয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি বিমানে রওয়ানা দিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। বাংলাদেশ সময় রোববার সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইটটি যাত্রা শুরু করে। আজ সোমবার সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
একই বিমানে আসছেন হুমায়ূনের স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, তার দুই পুত্র এবং শাশুড়ি বেগম তহুরা আলী। হুমায়ূনের মরদেহ ও স্বজনদের দেশে ফেরার বিমানের টিকিট সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে।
বিমানবন্দর থেকে প্রথমে তার মরদেহ ধানমন্ডিতে নিজ বাসভবন ‘দখিন হাওয়া’য় নেয়া হবে। পরে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বরেণ্য এ লেখকের মরদেহ রাখা হবে। পরে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
পরে গাজীপুরের নুহাশ পল্লীতে তার দাফন সম্পন্ন হবে। এর আগে শুক্রবার জুমার নামাজের পর নিউইয়র্কে জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে তার প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
হুমায়ূন আহমেদের ভাই আহসান হাবিব বলেন, ‘নুহাশ পল্লীতে তিনি নিজেই নাকি একটি জায়গা সেখানকার কর্মচারীদের দেখিয়ে ছিলেন। বলেছেন যে, আমাকে এখানেই কবর দিও।’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১১টা ২০ মিনিটে হুমায়ূন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ম্যানহাটন বেলভিউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এ সময় তার পাশে ছিলেন স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, ছোটভাই ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল এবং বন্ধু মাজহারুল ইসলামসহ আরো স্বজনরা। মৃত্যুকালে এ তার বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।
বরেণ্য এ লেখক দীর্ঘ ১০ মাস ধরে ক্যান্সার নামের মরণব্যাধির সঙ্গে লড়ছিলেন। চিকিৎসার জন্য গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর প্রথমবার নিউইয়র্ক যান। সেখানে ১২ দফা কেমো থেরাপি নেয়ার পর গত ১১ মে ২০ দিনের জন্য দেশে ফিরে আবার চিকিৎসার জন্য নিউইয়র্কে যান।
এরপর এ বছরের ১২ জুন নিউইয়র্কের ম্যানহাটন বেলভিউ হাসপাতালে তার প্রথম অস্ত্রোপচার হয়। আর ২১ জুন ওই হাসপাতালেই দ্বিতীয়বারের মতো তার অস্ত্রোপচার করা হয়।
গত কয়েকদিনে অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলে হুমায়ূন আহমেদকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাস দিয়ে নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসকরা বাঁচিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা চালান। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সমকালীন বাংলা সাহিত্যের এ বিশিষ্ট লেখক।