ডাঃ মোঃ আখতার উদ্দিন মুরাদ
আছিয়া (প্রকৃত নাম নয়) বয়স আনুমানিক ২১ বছর। সে তার বড় বোনকে নিয়ে শুক্রবার আমার সাথে দেখা করার জন্য আমার চেম্বারে আসে। কথা বলে যা জানা গেল আজ প্রায় ২ সপ্তাহ হল ওর দুই চোখ থেকে অনবরত রক্ত ঝড়ছে। কিছুক্ষণ পরপর টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে মুছে দেখা গেল টিস্যু পেপার ভিজে যাচ্ছে। দুই তিন দিন আগে একজন চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছে কিন্তু কোন কাজ হয় নাই। এমতাবস্থায় উপায় না দেখে আমার কাছে আসা। ভাল করে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে যাহা বুঝা গেল আছিয়ার চোখের নিচের পাতায় যে লোমকূপ আছে এই রক্তপাত সেই লোমকূপ থেকে সামান্য সামান্য করে ঝড়ছে। রোগীনিকে বেশ ক’বার আলাদাভাবে দেখে আমার ধারণা হলো- রোগীনির হয়তো কোন রক্ত ক্ষণিকায় দোষ থাকতে পারে। বা রক্ত নালীতে কোন অস্বাভাবিকতা থাকতে পারে। কিন্তু মুশকিল হলো, এমন কোন লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছিল না। যা হউক রক্ত পরীক্ষা প্রস্রাব পরীক্ষা ইত্যাদি সবই স্বাভাবিক অবস্থায় পাওয়া গেল। শুধুমাত্র ওর রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বেশ কম। যাহা এ বয়সে একটু বেশি হওয়াই বাঞ্ছনীয়। শেষ ফল তাকে বিভিন্ন ঔষধ দিয়ে বিদায় দিলাম। এক সপ্তাহ পর আবার আমার সাথে দেখা করতে এসে দেখা গেল যে তার ওই লোমকূপ থেকে কোন রক্তপাত হচ্ছে না এবং কোন লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। এ রোগ সাধারণত আমাদের দেশে একেবারেই কম। আজ প্রায় দেড় যুগ ধরে চক্ষু চিকিৎসায় এই প্রথম আমি এ রকম রোগীর সম্মুখিন হলাম।
টিনএজ মেয়েদের স্বাভাবিক মাসিকের সময় কোন কোন ক্ষেত্রে এ রকম চোখ থেকে রক্তপাত হতে পারে। কিন্তু মজার কথা হলো এই রোগীটির তখন কোন মাসিক চলছিল না। তাছাড়া আফ্রিকান অঞ্চলে কিছু লোক দেখা যায় যেখানে অনেক ক্ষেত্রে চোখ থেকে রক্তপাত হতে পারে। কিন্তু আমার এ রোগীনির ক্ষেত্রে এ রকম কোন সম্ভাবনাই নেই। তার পরিবার বাবা-মা সে নিজে জন্মগতভাবে হবিগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা।
অতএব আপাতত তার রক্তের হিমোগ্লোবিন এর উপর দোষ দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হলো। রোগীনিও মোটামুটি এখন ভাল আছে। তবে এসব ক্ষেত্রে সবসময় চিকিৎসকের কাছে থাকা অত্যন্ত জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে আলাদাভাবে রক্ত দেওয়া লাগতে পারে। পুষ্টিকর খাবার এক্ষেত্রে বেশ ভালো ভূমিকা রাখতে পারে এবং এর বিকল্প আপাতত কিছু আছে বলে এ মুহূর্তে মনেও পড়ছে না।
আছিয়া (প্রকৃত নাম নয়) বয়স আনুমানিক ২১ বছর। সে তার বড় বোনকে নিয়ে শুক্রবার আমার সাথে দেখা করার জন্য আমার চেম্বারে আসে। কথা বলে যা জানা গেল আজ প্রায় ২ সপ্তাহ হল ওর দুই চোখ থেকে অনবরত রক্ত ঝড়ছে। কিছুক্ষণ পরপর টিস্যু পেপার দিয়ে মুছে মুছে দেখা গেল টিস্যু পেপার ভিজে যাচ্ছে। দুই তিন দিন আগে একজন চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েছে কিন্তু কোন কাজ হয় নাই। এমতাবস্থায় উপায় না দেখে আমার কাছে আসা। ভাল করে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে যাহা বুঝা গেল আছিয়ার চোখের নিচের পাতায় যে লোমকূপ আছে এই রক্তপাত সেই লোমকূপ থেকে সামান্য সামান্য করে ঝড়ছে। রোগীনিকে বেশ ক’বার আলাদাভাবে দেখে আমার ধারণা হলো- রোগীনির হয়তো কোন রক্ত ক্ষণিকায় দোষ থাকতে পারে। বা রক্ত নালীতে কোন অস্বাভাবিকতা থাকতে পারে। কিন্তু মুশকিল হলো, এমন কোন লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছিল না। যা হউক রক্ত পরীক্ষা প্রস্রাব পরীক্ষা ইত্যাদি সবই স্বাভাবিক অবস্থায় পাওয়া গেল। শুধুমাত্র ওর রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণ বেশ কম। যাহা এ বয়সে একটু বেশি হওয়াই বাঞ্ছনীয়। শেষ ফল তাকে বিভিন্ন ঔষধ দিয়ে বিদায় দিলাম। এক সপ্তাহ পর আবার আমার সাথে দেখা করতে এসে দেখা গেল যে তার ওই লোমকূপ থেকে কোন রক্তপাত হচ্ছে না এবং কোন লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না। এ রোগ সাধারণত আমাদের দেশে একেবারেই কম। আজ প্রায় দেড় যুগ ধরে চক্ষু চিকিৎসায় এই প্রথম আমি এ রকম রোগীর সম্মুখিন হলাম।টিনএজ মেয়েদের স্বাভাবিক মাসিকের সময় কোন কোন ক্ষেত্রে এ রকম চোখ থেকে রক্তপাত হতে পারে। কিন্তু মজার কথা হলো এই রোগীটির তখন কোন মাসিক চলছিল না। তাছাড়া আফ্রিকান অঞ্চলে কিছু লোক দেখা যায় যেখানে অনেক ক্ষেত্রে চোখ থেকে রক্তপাত হতে পারে। কিন্তু আমার এ রোগীনির ক্ষেত্রে এ রকম কোন সম্ভাবনাই নেই। তার পরিবার বাবা-মা সে নিজে জন্মগতভাবে হবিগঞ্জের স্থায়ী বাসিন্দা।
অতএব আপাতত তার রক্তের হিমোগ্লোবিন এর উপর দোষ দিয়ে চিকিৎসা প্রদান করা হলো। রোগীনিও মোটামুটি এখন ভাল আছে। তবে এসব ক্ষেত্রে সবসময় চিকিৎসকের কাছে থাকা অত্যন্ত জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে আলাদাভাবে রক্ত দেওয়া লাগতে পারে। পুষ্টিকর খাবার এক্ষেত্রে বেশ ভালো ভূমিকা রাখতে পারে এবং এর বিকল্প আপাতত কিছু আছে বলে এ মুহূর্তে মনেও পড়ছে না।









