স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিক্ষকতা নিছক পেশা নয়। বরং একে ব্রত বলা যায়। মানুষ গড়ার কাজে নিয়োজিত থেকে সমাজ গঠনের পাশাপাশি নিজেদের সন্তানও আলোকিত মানুষ হয়। হবিগঞ্জের তেমনি এক শিক্ষক দম্পত্তি নিজেদের ৪ সন্তানকে আলোকিত মানুষ করে গর্বিত মা-বাবার সম্মাননা পুরস্কার অর্জন করেছেন।হবিগঞ্জ শহরের পুরান মুন্সেফী এলাকার অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র দাস ও শিক্ষিকা নমিতা রাণী দাস সিলেটের নাঈম-জাহান-লতিফী ইএনটি সেন্টারের উদ্যোগে প্রদত্ত এই সম্মাননা পুরস্কার লাভ করেন। সিলেট বিভাগের ১৫ দম্পত্তি এই পুরস্কার লাভ করেছেন। তন্মধ্যে হবিগঞ্জের শুধু অধ্যাপক গোবিন্দ দাস ও শিক্ষিকা নমিতা রাণী এই পুরস্কার লাভ করলেন। গত ১৩ জুলাই বিকেলে সিলেট অডিটরিয়ামে এই পুরস্কার প্রদান করেন মহিলা এমপি জেবুন্নেছা হক।
অধ্যাপক গোবিন্দ দাস ঢাকা কিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে মাস্টার্স করে শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত হন। শায়েস্তাগঞ্জ ডিগ্রী কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে অবসর গ্রহণ করার পর এখন হোমিওপ্যাথিক প্র্যাকটিস করেন। এর আগে তিনি বাহুবলের দীননাথ ইনস্টিটিউট ও সুজাতপুর হানিফ খান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। তার স্ত্রী নমিতা রাণী দাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে অবসরে যান। বড় ছেলে বিদ্যুৎ কান্তি দাস ব্যাংকার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে এমবিএ ডিগ্রী অর্জনকারী বিদ্যুৎ দাস বর্তমানে ফিন্যান্সিয়াল প্রতিষ্ঠান আইডিএলসির এজিএম। তার স্ত্রী ফাল্গুনী দাস সহকারী পুলিশ সুপার। ২য় ছেলে প্রদ্যোৎ কান্তি দাস শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজ বিজ্ঞানে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করে একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেন। বর্তমানে তিনি পূবালী ব্যাংকের ম্যানেজার। ৩য় ছেলে পঙ্কজ কান্তি দাস ভারতের রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সঙ্গীতে সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করে হবিগঞ্জ সোনালী ব্যাংকে কর্মরত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ অধ্যয়নরত। ছাত্রজীবনে পঙ্কজ তবলায় জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। একমাত্র মেয়ে নন্দিতা রাণী দাস ইডেন মহিলা কলেজ থেকে ইংরেজী সাহিত্যে স্নাতক সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। বর্তমানে তিনি আমেরিকায় ইংরেজী সাহিত্যে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।









