গুলিতে নিরীহ কৃষক নিহত হওয়ার ঘটনায় দারোগা বেলায়েতসহ ৪ ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা
মামলায় মাধবপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী অসীম, ধর্মঘর ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল ইসলাম কামাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে সাক্ষী করা হয়েছে ॥ পুলিশের সাথে আসামী করা হয়েছে ২ মাদক ব্যবসায়ীকে
মোঃ আলাউদ্দিন আল রনি, মাধবপুর থেকে ॥ মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী আলীনগর গ্রামে ডিবি পুলিশের গুলিতে নুরুল ইসলাম নিহত হওয়ার ঘটনায় হবিগঞ্জ ডিবি পুলিশের এসআই বেলায়েত হোসেনকে প্রধান আসামী করে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার অপর আসামীরা হলেন কনস্টেবল জাহিদ হোসেন, কনস্টেবল মাহফুজুর রহমান, কনস্টেবল আনিছুর রহমান, আলীনগর গ্রামের ছায়েব আলী মুন্সির ছেলে আতাউর রহমান (৩২) ও মহনপুর গ্রামের ইয়াকুব আলীর ছেলে শাহীন (৩০)। গতকাল বৃহস্পতিবার নিহতের স্ত্রী জরিনা খাতুন বাদী হয়ে হবিগঞ্জের জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কগ-৫ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব কুমার বিশ্বাস মামলাটি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য মাধবপুর থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন। এডভোকেট সৈয়দ মোজ্জামিল আলী বাদীর পক্ষে এ মামলাটি আদালতে দাখিল করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আসামী আতাউর রহমান ও শাহীন মিয়া ঘটনার আগের দিন রাত ১১টায় নিহত নুরুল ইসলামের উঠানের উপর দিয়ে ভারতীয় অবৈধ শাড়ির গাইট নিয়ে যাওয়ার সময় নিহতের ছেলে জেবু মিয়া বাঁধা দেয় এবং এদিক দিয়ে ভবিষ্যতে শাড়ী মাদকসহ ভারত থেকে আমদানীকৃত চোরাই মাল উঠানের উপর দিয়ে পাচার করতে নিষেধ করেন। জেবুর কথা শুনে আতাউর ও শাহীন জেবুকে বাঁধা দেয়ার মজা আগামী দিনের মধ্যেই দেখাবে বলে হুমকি দেয়। এর জের ধরে রোববার রাত প্রায় পৌনে ১২টার দিকে আতাউর ও শাহীন হবিগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই বেলায়েত হোসেনের নেতৃত্বে কনস্টেবল জাহিদ হোসেন, মাহফুজুর রহমান ও আনিছুর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে জেবুর বাড়িতে প্রবেশ করে এবং জেবুকে তার পূর্ব ভিটের ঘর থেকে জোরপূর্বক জাপটে ধরে টানা হেচড়া করে দক্ষিণ দিকে নিয়ে যেতে থাকে। এ সময় জেবুর শোর চিৎকারে তার পিতা নুরুল ইসলাম ও ছোট ভাই মিন্টু ঘুম থেকে জেগে উঠে জেবুকে নিয়ে যাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করে। এ সময় এনামুল হক ঘর থেকে বের হয়ে জেবুকে ধরে দেওয়ার কারণ জানতে চায়। তখন আসামীপক্ষ কোন সদুত্তর না দিয়ে ডিবি’র এসআই বেলায়েত হোসেন উত্তেজিত হয়ে নুরুল ইসলামকে হত্যার হুকুম দিলে অন্যান্য আসামীরা তাকে মারপিট শুরু করে। এক পর্যায়ে এসআই বেলায়েত হোসেনের নির্দেশে কনস্টেবল জাহিদ হোসেন আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে নুরুল ইসলামকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এ সময় নূরুল ইসলাম মাটিতে লুটিয়ে পড়লে ডিবি পুলিশ জেবুকে ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুলিবিদ্ধ নুরুল ইসলামকে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্য ব্যক্তির সহযোগিতায় মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মামলায় আরও উল্লেখ করা হয় আসামী আতাউর ও শাহীন এলাকার কুখ্যাত মাদক চোরাকারবারী। তারা একাধিক চোরাকারবারী মামলার আসামী হওয়া সত্বেও ডিবি’র এসআই বেলায়েত হোসেনসহ অন্যান্য আসামীগণ আতাউর ও শাহীন কর্তৃক অবৈধভাবে প্রভাবিত হয়ে গভীর ষড়যন্ত্র করে এ হত্যাকান্ড সংঘটিত করেছে। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, আসামীগণ পুলিশ বাহিনীর সদস্য হওয়ায় মাধবপুর থানা পুলিশ তাদের কোন অভিযোগ গ্রহণ করেননি। বরং নুরুল ইসলাম হত্যাকান্ডটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য স্থানীয় চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম কামালকে দিয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করানো হয়। নিহত নুরুল ইসলামের দায়ের করা মামলায় উপজেলা চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরী অসীম, ইউপি চেয়ারম্যান শামসুল ইসলাম কামালসহ ২২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ কবিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখন পর্যন্ত মামলার কপি আমার হাতে পৌঁছেনি। আদেশ না দেখে কিছু বলা যাচ্ছে না।