চুনারুঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে মেশিন ও অপারেশন থিয়েটার ১০ বছরেও চালু হয়নি
চুনারুঘাট প্রতিনিধি ॥ ৪ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার একমাত্র ভরসাস্থল চুনারুঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটার ও এক্স-রে মেশিনটি দীর্ঘ ১০ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি। ফলে সরকারের কোটি টাকার এ সম্পদ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অথচ বছরের পর বছর অন্যত্র বসে বসে বেতন ভাতা নিচ্ছেন কনসালটেন্ট ও টেকনেশিয়ানরা। ফলে ভুক্তভোগীদের দৌঁড়াতে হচ্ছে প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া ছাড়াও তারা পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০০১ সালে স্থাপিত হয় অপারেশন থিয়েটার। একই সাথে একটি আধুনিক মানের এক্স-রে মেশিনও বরাদ্দ করা হয়। এক্স-রে মেশিনটি চালুর কিছু দিন পরই বন্ধ হয়ে যায়। ত্র“টির অজুহাতে এক্স-রে মেশিনটি পড়ে আছে ১০ বছর ধরে। অথচ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট রেডিওগ্রাফার বসে বসে বেতন ভাতা নিচ্ছেন। প্রতিদিন হাসপাতালে আসা শত শত ভুক্তভোগী এক্স-রে করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন। হাসপাতালে আসা রোগীদের বাইরে প্রাইভেট ক্লিনিকে এক্স-রে করার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এতে নিম্ন ও দরিদ্র পর্যায়ের অধিকাংশ রোগী এক্স-রে করতে পারছেন না।
এদিকে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারটি দীর্ঘ ১০ বছরেও চালু হয়নি। থিয়েটারে মাঝে মাঝে পরিবার পরিকল্পনা কর্মীরা মহিলা ও পুরুষদের লাইগেশন, বন্ধ্যাকরণসহ জন্ম নিরোধ কার্যক্রম চালান। অথচ এখানে ডাঃ আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরী নামে একজন জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনী ডাক্তার রয়েছেন। তিনি ২০০৭ সালে ডেপুটেশনে সিলেট চলে গেছেন। কিন্তু মাসে মাসে বেতন ভাতা নিচ্ছেন চুনারুঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে। অপারেশন থিয়েটারটি কখনোই চালু হয়নি। এখানে হয়নি কোন অপারেশনও। চা বাগান অধ্যুষিত উপজেলার দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে দৌঁড়াতে হচ্ছে ৩০ কিঃমিঃ দূর হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে কিংবা প্রাইভেট ক্লিনিকে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অপারেশন থিয়েটারটি সচল বলে দাবি করেছে। কিন্তু ডাক্তার ছাড়া কিভাবে অপারেশন থিয়েটার সচল জিজ্ঞাসা করা হলে কোন উত্তর পাওয়া যায়নি।
জানা গেছে, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে জেলার দায়িত্বে থাকা সেনা কর্মকর্তা একবার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করতে এসে অপারেশন থিয়েটার বন্ধ দেখতে পান। পরে তিনি অপারেশন থিয়েটার চালুর পদক্ষেপ নিতে বললেও তা চালু করা হয়নি। বছরের পর বছর ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অপারেশন থিয়েটারটি বন্ধ থাকলেও তা চালুর ব্যাপারে কারো কোন মাথাব্যাথা নেই। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ শফিকুর রহমান জানান, তিনি যোগদানের পর অপারেশন থিয়েটার চালুর ব্যাপারে উর্ধŸতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। কিন্তু কাজ হয়নি। ডাঃ আব্দুর রাজ্জাক চৌধুরী বছরের পর বছর ধরে অন্যত্র বসে বসে বেতন ভাতা নিচ্ছেন কিভাবে জানতে চাইলে তিনি জানান, তিনি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ডেপুটেশনে আছেন। এছাড়া এক্স-রে মেশিন চালু না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক্স-রে মেশিন নষ্ট হয়ে আছে অনেক দিন ধরে। এ নিয়েও লেখালেখি করেছি। কিন্তু কোন কাজ হয়নি।

শেষ পাতা