আমাদের কথা

সাপ্তাহিক থেকে দৈনিক খোয়াই

দৈনিক খোয়াই ১৯৯১ সালের ১২ অক্টোবর ‘সাপ্তাহিক খোয়াই’ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে সাফল্যের শীর্ষে থেকে ২০০৫ সালের ২৫ অক্টোবর দৈনিক খোয়াই’র নবযাত্রা শুরু হয়। এই পথ পরিক্রমায় ‘খোয়াই’র সবচেয়ে বড় অর্জন পাঠকদের আস্থা। তবে খোয়াই’র যাত্রা একেবারেই সহজ ছিল না। হবিগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবী ও রাজনীতিবিদ মরহুম আলহাজ্ব আজিজুর রহমান ১৯৭৮ সালে প্রথম পত্রিকা প্রকাশের চিন্তা করেন। কিন্তু সে সময় সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণে সক্ষম সহযোগীর অভাবে তার সে স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়। ১৯৮৮ সালের মধ্যভাগে তিনি আবার হবিগঞ্জ শহর থেকে একটি সংবাদপত্র প্রকাশের উদ্যোগ নেন। এজন্য তিনি হবিগঞ্জ এবং ঢাকায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বহুবার ধর্ণা দিয়েছেন। কিন্তু সে সময়ের স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পত্রিকা ডিক্লারেশনের ক্ষেত্রে কঠোর মনোভাবের কারণে তিনি তার স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে পারেননি। ১৯৯০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর আলহাজ্ব আজিজুর রহমান মৃত্যুবরণ করেন। অন্যদিকে ১৯৯০ সনের ডিসেম্বরে এরশাদ সরকার পতনের পর পত্রিকা ডিক্লারেশনের নিয়ম কানুন শিথিল হলে ‘সাপ্তাহিক খোয়াই’ ছাড়পত্র পায়। ‘খোয়াই’ নামটি ছিল আলহাজ্ব আজিজুর রহমানের পছন্দের।
খোয়াই যখন সাপ্তাহিক হিসেবে যাত্রা শুরু করে তখন হবিগঞ্জ থেকে ৩টি সাপ্তাহিক পত্রিকা লেটারপ্রেসে ছেপে প্রকাশ হত। প্রথম থেকেই আমাদের অদম্য ইচ্ছা ছিল কম্পিউটার কম্পোজের মাধ্যমে অফসেটে ছেপে পত্রিকা প্রকাশের। কিন্তু এটি অত্যন্ত দূরুহ ছিল। কারণ প্রতি সপ্তাহে ঢাকা গিয়ে পত্রিকার সব কাজ করিয়ে নিয়মিত প্রকাশ করা ছিল রীতিমত দুঃসাহসিক। পত্রিকার কম্পোজ, ম্যাকআপ, কিভাবে কোথায় করা হবে তা আমাদের অজানা ছিল। শুরুতে নির্বাহী সম্পাদক রাহাত চৌধুরী ও বার্তা সম্পাদক হারুনুর রশিদ চৌধুরী ‘খোয়াই’ পত্রিকা প্রকাশের সাথে জড়িত হন। তখন সপ্তাহের রবিবার ছিল পত্রিকার ডেটলাইন। প্রতি বৃহস্পতিবার রাতে পত্রিকার সমস্ত ম্যাটার নিয়ে হারুনুর রশিদ চৌধুরী ঢাকা চলে যেতেন। উদ্বোধনী সংখ্যাসহ বেশ কয়েকটি সংখ্যার কাজ হয় দৈনিক ইত্তেফাকে। ইত্তেফাকের তখনকার বিশিষ্ট সাংবাদিক, পরবর্তী সময়ের জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি, কমনওয়েল জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট হাসান শাহরিয়ার প্রথম থেকেই পত্রিকার মেকআপ, খবরের শিরোনামসহ নানা ধরণের সহযোগিতা করেছেন আন্তরিকভাবে। একটানা ১০ বছর ঢাকা থেকেই সাপ্তাহিক খোয়াই প্রকাশ করা হয়েছে। হরতাল, অবরোধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কোন কিছুই ‘খোয়াই’র প্রকাশনাকে ব্যাহত করতে পারেনি। এটিও আল্লার অশেষ মেহেরবাণী। এক্ষেত্রে শুরু থেকে বার্তা সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে থাকা হারুনুর রশিদ চৌধুরীর অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা না বললেই নয়। ১০টি বছর প্রতি সপ্তাহে ঢাকা যাওয়া এবং পত্রিকা প্রকাশ করে হবিগঞ্জে এনে পাঠকদের কাছে তুলে দেয়া একদিনের জন্যও ছন্দপতন ঘটেনি।
হবিগঞ্জে আধুনিক প্রযুক্তিতে সর্বপ্রথম পত্রিকা বের করার কৃতিত্বের দাবীদার ‘খোয়াই’। সর্বশেষে খোয়াই অনলাইন সংস্করণ প্রকাশ করে আধুনিকতার পথে আরো একধাপ এগিয়ে গেল। ইন্টারনেটের বদৌলতে দৈনিক খোয়াই এখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হবিগঞ্জসহ বৃহত্তর সিলেটের যে সমস্ত অধিবাসী বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করছেন তারা যেন হবিগঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকার খবর সুদূর প্রবাসে বসে পড়তে পারেন সেজন্যই আমাদের এ আয়োজন। খোয়াই-এর প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আলহাজ্ব আজিজুর রহমানের স্বপ্ন ছিল খোয়াই আরো বিকশিত হবে। সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। অনলাইন সংস্করণসহ খোয়াই’র প্রিন্ট এডিশনের মান উন্নয়নে যে কোন পদক্ষেপ গ্রহণে আমরা পিছপা হবো না। আমাদের অগণিত পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদেরকে আশ্বস্থ করতে চাই দৈনিক খোয়াই সত্য ও সুন্দরের প্রতি সবসময় বিশ্বস্ত থাকবে।

 

শামীম আহছান
সম্পাদক ও প্রকাশক

দৈনিক খোয়াই